সকালের ইরেকশন না হওয়ার সম্ভাব্য কারণ
ঘুম থেকে উঠে আগের মতো ইরেকশন হচ্ছে না—এটা দেখেই ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন সকালে ইরেকশন হতেই হবে এমন নয়। ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ে রাতে একাধিকবার স্বাভাবিক ইরেকশন হতে পারে, যার কোনোটি সকালে টের পাওয়া যায়।
তবে আগে নিয়মিত হতো, এখন দীর্ঘদিন ধরে একেবারেই হচ্ছে না এবং একই সঙ্গে যৌন সম্পর্কের সময়ও ইরেকশন দুর্বল হচ্ছে—তাহলে কারণ খুঁজে দেখা ভালো।
সম্ভাব্য কারণ
১. ঘুম ঠিক না হওয়া
কম ঘুম, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ঘুমের মান খারাপ হলে রাতের স্বাভাবিক ইরেকশনে প্রভাব পড়তে পারে।
২. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
অতিরিক্ত স্ট্রেস, উদ্বেগ বা যৌন পারফরম্যান্স নিয়ে দুশ্চিন্তা যৌন প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
৩. ডায়াবেটিস
দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে রক্তনালী ও স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ইরেকশন দুর্বল হতে পারে।
৪. রক্তনালীর সমস্যা
ইরেকশনের জন্য পেনিসে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান ও হৃদ্রক্তনালীর বিভিন্ন ঝুঁকি এতে প্রভাব ফেলতে পারে।
৫. হরমোনের সমস্যা
কিছু ক্ষেত্রে কম টেস্টোস্টেরন বা অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যার সঙ্গে যৌন ইচ্ছা ও ইরেকশনের পরিবর্তন থাকতে পারে।
৬. কিছু ওষুধ
কিছু antidepressant, রক্তচাপের ওষুধ এবং অন্যান্য ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় যৌন কার্যক্রমে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ওষুধ বন্ধ করবেন না।
৭. বয়সের সঙ্গে পরিবর্তন
বয়স বাড়ার সঙ্গে রাতের ইরেকশনের ধরন ও দৃঢ়তায় পরিবর্তন হতে পারে।
কখন গুরুত্ব দেবেন?
শুধু সকালের ইরেকশন না হওয়া দিয়ে ED নির্ণয় করা যায় না। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে পরিবর্তন থাকার পাশাপাশি—
— যৌন উত্তেজনায়ও ইরেকশন হতে সমস্যা
— ইরেকশন যথেষ্ট শক্ত না হওয়া
— শক্ত হলেও ধরে রাখতে না পারা
— যৌন ইচ্ছা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া
এগুলোর কোনোটি থাকলে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য পেশাজীবীর মাধ্যমে মূল্যায়ন করানো ভালো।
মূল কথা: সকালের ইরেকশন শরীরের যৌন ও রক্তনালীর স্বাস্থ্যের একটি সূত্র হতে পারে, কিন্তু এটি একা কোনো রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা নয়।
ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম
পেলভিক হেলথ ফিজিও
BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা
সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট