অনেক পুরুষ আমার কাছে এসে বলেন, "ডাক্তার, ট্যাবলেট খেয়েও কাজ হচ্ছে না।" তখন তাঁরা ভাবেন, আমার আর কিছু করার নেই। কিন্তু আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যাটা ওষুধের না, ওষুধ কাজ করার পরিবেশটা ঠিক নেই। আজ সেটাই সহজ করে বলছি।
আগে জেনে নিন, ওষুধ কীভাবে কাজ করে
ইরেকশনের জন্য সবচেয়ে বেশি যে ওষুধ ব্যবহার হয়, যেমন Sildenafil বা Tadalafil, এগুলোকে বলে PDE5 inhibitor। এগুলো ইরেকশনের প্রথম ধাপের চিকিৎসা। কিন্তু এই ওষুধ নিজে থেকে ইরেকশন তৈরি করে না। উত্তেজনা হলে শরীর যে সংকেত পাঠায়, ওষুধ সেই সংকেতের কাজটাকে সাহায্য করে। তাই উত্তেজনা বা শরীরের সংকেত ঠিক না থাকলে শুধু ট্যাবলেট যথেষ্ট না।
জটিল ED-র অনেক রোগী এই ওষুধে সাড়া দেন না, এটা চিকিৎসা-গবেষণার review-তেই বলা আছে। কারণ কী কী হতে পারে, দেখে নিন।
১. সমস্যাটা ওষুধে ঠিক হওয়ার মতো না
ডায়াবেটিস: সুগার বেশি থাকলে স্নায়ু আর রক্তনালীর ক্ষতি হয়, লিঙ্গের ভেতরের পেশির পরিবর্তন হয়, আর হরমোনের সমস্যাও হতে পারে। একটি review বলছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অন্তত অর্ধেক পুরুষের ED হয়। এই ক্ষেত্রে আগে সুগার নিয়ন্ত্রণে আনা, জীবনযাপন ঠিক করা আর দরকার হলে হরমোন ঠিক করা প্রথম কাজ। ওষুধে কাজ না হলে দ্বিতীয় ধাপে ইনজেকশনের মতো চিকিৎসার কথা ভাবা হয়।
রক্তনালী বা স্নায়ুর বড় ক্ষতি: রক্তনালী খুব বেশি বন্ধ হয়ে গেলে, বা প্রস্টেট অপারেশনের পর স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে, ওষুধ একা পুরো কাজ করতে পারে না।
হরমোন ও অন্য রোগ: টেস্টোস্টেরন কম, থাইরয়েড, কিডনির সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ আর কোলেস্টেরল, এগুলো ঠিক না করলে ওষুধের কাজ কমে যেতে পারে।
পেলভিক ফ্লোর পেশি: ইরেকশন ধরে রাখতে এই পেশির ভূমিকা আছে। পেশি দুর্বল বা বেশি টানটান হলে ওষুধ খেয়েও ইরেকশন টিকে না। কোনটা আপনার ক্ষেত্রে, সেটা পরীক্ষা না করে বোঝা যায় না।
২. ওষুধ খাওয়ার ভুল বা অন্য কারণ
উত্তেজনা ছাড়া শুধু ট্যাবলেট খেলে ইরেকশন আসে না।
সময় বা ডোজ ঠিক না থাকা, বেশি তেল বা চর্বির খাবারের সঙ্গে খেলে কাজ দেরিতে শুরু হওয়া।
একবার বা দুইবার চেষ্টা করেই ছেড়ে দেওয়া। ঠিকমতো বোঝার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করা লাগে।
ধূমপান, মদ, ওজন বেশি, ঘুমের অভাব।
দোকান থেকে কেনা নকল বা নিম্নমানের ওষুধ। এতে কাজ তো হয়ই না, ক্ষতিও হতে পারে।
কিছু অন্য ওষুধ বা রোগের কারণে ওষুধ ঠিকমতো কাজ না করা, তাই কোন কোন ওষুধ খাচ্ছেন, ডাক্তারকে জানানো জরুরি।
৩. মনের ভয় ও চাপ
পারফরম্যান্স নিয়ে ভয়, দুশ্চিন্তা বা সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের চাপ থাকলে শরীর ঠিকমতো সাড়া দেয় না। তখন ওষুধ খেয়েও ইরেকশন আসে না। অনেক সময় একবার ব্যর্থ হলে পরেরবার ভয়টা আরও বাড়ে, আর চক্রটা চলতে থাকে। মনের চাপ কমানোও চিকিৎসার অংশ।
তাহলে কী করবেন
ওষুধ কাজ না করলে হাল ছাড়বেন না। এই কাজগুলো করুন:
ওষুধটা ঠিকমতো (সঠিক সময়ে, উত্তেজনার সঙ্গে, কয়েকবার) খাওয়া হয়েছে কি না দেখুন
সুগার, প্রেসার, কোলেস্টেরল আর প্রয়োজনে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করান
ঘুম, ওজন, ধূমপান আর ব্যায়ামের অভ্যাস ঠিক করুন
পারফরম্যান্স নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে খোলামেলা কথা বলুন
পেলভিক ফ্লোর পেশির মূল্যায়ন করান। দুর্বল না টানটান, সেটা জেনে সেই অনুযায়ী ব্যায়াম শিখুন
প্রয়োজনে ওষুধের সঙ্গে অন্য চিকিৎসা মেলানো যায়। কয়েকটা combination নিয়ে প্রাথমিক গবেষণা আছে, তবে ২০১১ সালের review বলছে বেশিরভাগ গবেষণা ছোট আর সীমাবদ্ধ, তাই কোনটা আপনার জন্য ঠিক, সেটা ডাক্তারের সঙ্গে ঠিক করুন
নিজে থেকে ডোজ বাড়াবেন না, আর অন্য কারও ওষুধ খাবেন না
শেষ কথা
ওষুধ কাজ না করা মানে আপনার ইরেকশন আর ঠিক হবে না, তা না। বেশিরভাগ সময় কারণটা খুঁজে বের করতে পারলে পথ খুলে যায়। দেরি না করে পরীক্ষা করিয়ে কারণটা জেনে নিন।
মেডিসিন বিহীন ফোকাসড শক ওয়েভ থেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমেও লিংগের শক্ত না হওয়ার সমস্যা সমাধান করা যায়।
সঠিক মূল্যায়ন ও পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন:
The Pelvic Physio, বনানী, 01939417429, +880 1349241785
ডা. তরিকুল ইসলাম, পিটি
পেলভিক হেলথ এন্ড মাস্কুলোস্কেলেটাল ফিজিও
সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব ফিজিও
রেফারেন্স (PubMed)
Hatzimouratidis and Hatzichristou, 2014, Current Diabetes Reports, ডায়াবেটিসে ED-র চিকিৎসা: https://doi.org/10.1007/s11892-014-0545-6
Dhir et al., 2011, Asian Journal of Andrology, ED-তে combination therapy: https://doi.org/10.1038/aja.2011.2