Pelvic Health

পেলভিক ফ্লোর মাসল কী? দুর্বল হলে কী হয়?

৫ মিনিট · 23 September 2026
পেলভিক ফ্লোর মাসল কী? দুর্বল হলে কী হয়?

পেলভিক ফ্লোর (Pelvic Floor) নামটা অনেকেই শুনেছেন, কিন্তু এই পেশি আসলে কোথায় এবং কী কাজ করে—সেটা অনেকেরই পরিষ্কার নয়।

সহজভাবে বললে, পেলভিসের একেবারে নিচের দিকে থাকা কয়েকটি পেশির সমষ্টিই পেলভিক ফ্লোর মাসেল। অনেকটা ঝুলন্ত জালের মতো এই পেশিগুলো মূত্রাশয় ও অন্ত্রসহ পেলভিক অঙ্গগুলোকে নিচ থেকে সাপোর্ট দেয়।

পুরুষদের প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণ এবং যৌন কার্যক্রমেও এই পেশির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

পেলভিক ফ্লোর মাসেল কী কাজ করে?

এই পেশির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো—

— প্রস্রাব ধরে রাখতে সাহায্য করা
— পায়খানা ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা
— মূত্রাশয় ও পেলভিক অঙ্গগুলোকে সাপোর্ট দেওয়া
— প্রস্রাব করার সময় প্রয়োজনমতো রিলাক্স করা
— পুরুষের যৌন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখা
— শরীরের কোর ও পেলভিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় সাহায্য করা

অর্থাৎ পেলভিক ফ্লোর শুধু যৌনস্বাস্থ্যের জন্য নয়, দৈনন্দিন অনেক স্বাভাবিক কাজের সঙ্গেই জড়িত।

পেলভিক ফ্লোর দুর্বল হলে কী হতে পারে?

পেশিগুলো প্রয়োজনমতো শক্তি তৈরি করতে না পারলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

১. প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা

কাশি, হাঁচি, হাসি বা ভারী কিছু তোলার সময় অল্প প্রস্রাব বের হয়ে যেতে পারে।

প্রস্টেট অপারেশনের পরও কিছু পুরুষের এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়।

২. প্রস্রাব শেষে ফোঁটা ফোঁটা পড়া

প্রস্রাব শেষ করার পর কাপড়ে কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব পড়ে যাওয়ার সমস্যাও কিছু ক্ষেত্রে পেলভিক ফ্লোরের কার্যক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

৩. পায়খানা বা গ্যাস নিয়ন্ত্রণে সমস্যা

পেলভিক ফ্লোর পায়ুপথের নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। তাই পেশির কার্যক্ষমতা কমে গেলে কিছু মানুষের গ্যাস বা মল ধরে রাখতে সমস্যা হতে পারে।

৪. যৌন কার্যক্রমে প্রভাব

পুরুষের ইরেকশন ও বীর্যপাতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পেলভিক ফ্লোরের কিছু পেশি অংশ নেয়।

তাই কিছু পুরুষের যৌন সমস্যার মূল্যায়নের সময় পেলভিক ফ্লোরের শক্তি, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ও দেখা হয়।

তবে ইরেকশন দুর্বল বা দ্রুত বীর্যপাত হলেই পেলভিক ফ্লোর দুর্বল—এমন নয়। এসব সমস্যার আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।

পেলভিক ফ্লোর কেন দুর্বল হতে পারে?

বিভিন্ন কারণে পেশির কার্যক্ষমতা কমতে পারে। যেমন দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য ও অতিরিক্ত চাপ দেওয়া, দীর্ঘদিনের কাশি, অতিরিক্ত ওজন, বয়সজনিত পরিবর্তন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং কিছু ধরনের পেলভিক বা প্রস্টেট সার্জারির পর।

কারণটা বুঝেই ব্যায়াম বা চিকিৎসা নির্বাচন করা প্রয়োজন।

দুর্বল হলেই কি কেগেল করতে হবে?

এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়।

অনেকে প্রস্রাব বা যৌন সমস্যা হলেই ইউটিউব দেখে কেগেল (Kegel Exercise) শুরু করেন। কিন্তু সবার পেলভিক ফ্লোর দুর্বল থাকে না।

কারও পেশি অতিরিক্ত টাইট থাকতে পারে। কারও আবার পেশি শক্তিশালী হলেও ঠিক সময়ে সংকুচিত ও রিলাক্স করার সমন্বয়ে সমস্যা থাকতে পারে।

অতিরিক্ত টাইট পেলভিক ফ্লোরে অযথা বেশি কেগেল করলে কিছু মানুষের ব্যথা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে।

তাহলে কী করবেন?

প্রথমে পেলভিক ফ্লোর অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয়—

পেশি দুর্বল কি না, অতিরিক্ত টাইট কি না, ঠিকভাবে সংকুচিত ও রিলাক্স করতে পারছেন কি না এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ও অন্যান্য পেশির সঙ্গে সমন্বয় ঠিক আছে কি না।

এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পেলভিক ফ্লোর ট্রেনিং, রিলাক্সেশন, শ্বাসের ব্যায়াম, ব্লাডার ট্রেনিং বা অন্য রিহ্যাব দেওয়া যেতে পারে।

মনে রাখবেন—পেলভিক ফ্লোরের সমস্যার চিকিৎসা মানেই শুধু কেগেল নয়। আগে সমস্যাটা বুঝতে হবে, তারপর সঠিক ব্যায়াম নির্বাচন করতে হবে।

ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম
পেলভিক হেলথ ফিজিও
BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা
সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট

← সব ব্লগে ফিরে যান

আরও পড়ুন