দ্রুত বীর্যপাত (Premature Ejaculation বা PE) পুরুষদের একটি পরিচিত যৌন সমস্যা। অনেকেই ভাবেন, এটি শুধু “দুর্বলতা” বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার কারণে হয়। আসলে এর পেছনে শারীরিক ও মানসিক—দুই ধরনের কারণই থাকতে পারে।
সাধারণ কারণ কী কী?
১. অতিরিক্ত উত্তেজনা বা উদ্বেগ
সহবাসের সময় অতিরিক্ত চিন্তা, ভয় বা পারফরম্যান্স নিয়ে চাপ থাকলে বীর্যপাতের নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে।
২. বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস তৈরি না হওয়া
অনেকের ক্ষেত্রে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায় এবং কখন বীর্যপাতের কাছাকাছি চলে এসেছেন, সেটি বুঝে ওঠার আগেই বীর্যপাত হয়ে যায়।
৩. ইরেকশন নিয়ে দুশ্চিন্তা
ইরেকশন হারিয়ে যাবে—এই ভয় থেকে দ্রুত যৌনক্রিয়া শেষ করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। ED এবং PE কখনও একই সঙ্গে থাকতে পারে।
৪. পেলভিক ফ্লোরের সমস্যা
কিছু মানুষের পেলভিক ফ্লোর পেশির নিয়ন্ত্রণ বা সমন্বয়ে সমস্যা থাকতে পারে। আবার পেশি অতিরিক্ত টাইট থাকলেও সমস্যা হতে পারে।
৫. মানসিক ও সম্পর্কের বিষয়
স্ট্রেস, উদ্বেগ বা সম্পর্কের টানাপোড়েন যৌন উত্তেজনা ও বীর্যপাতের নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে।
৬. কিছু শারীরিক কারণ
কিছু ক্ষেত্রে প্রস্টেটের প্রদাহ, থাইরয়েডের সমস্যা বা অন্যান্য শারীরিক অবস্থার সঙ্গেও দ্রুত বীর্যপাতের সম্পর্ক থাকতে পারে।
সমাধান কী?
দ্রুত বীর্যপাতের চিকিৎসা সবার জন্য এক নয়। সমস্যার কারণ বুঝে চিকিৎসা নির্বাচন করা হয়।
— Stop–Start Technique: বীর্যপাত খুব কাছে আসার আগেই কিছু সময় উদ্দীপনা বন্ধ করে উত্তেজনা কমানো, এরপর আবার শুরু করা।
— উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ শেখা: নিজের শরীরের উত্তেজনার মাত্রা বুঝে বীর্যপাতের একেবারে কাছাকাছি যাওয়ার আগেই গতি কমানো বা বিরতি নেওয়ার অনুশীলন।
— পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব: পেশি দুর্বল হলে উপযুক্ত ট্রেনিং এবং অতিরিক্ত টাইট হলে রিলাক্সেশন প্রয়োজন হতে পারে।
— কাউন্সেলিং বা সেক্স থেরাপি: উদ্বেগ, পারফরম্যান্সের ভয় বা সম্পর্কের সমস্যা থাকলে উপকারী হতে পারে।
— ওষুধ: প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ওষুধ বা topical treatment ব্যবহার করা হয়। নিজের মতো করে ওষুধ শুরু করা ঠিক নয়।
শুধু কেগেল করলেই কি সমাধান হবে?
না। দ্রুত বীর্যপাত হলেই কেগেল প্রয়োজন—এটা ঠিক নয়।
কারও পেলভিক ফ্লোর দুর্বল, আবার কারও অতিরিক্ত টাইট থাকতে পারে। তাই প্রয়োজনে আগে পেলভিক ফ্লোর অ্যাসেসমেন্ট করে তারপর ব্যায়াম নির্বাচন করা ভালো।
মনে রাখবেন
দ্রুত বীর্যপাত অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শুধু কত মিনিট স্থায়ী হচ্ছে সেটাই নয়—বীর্যপাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আছে কি না এবং সমস্যাটি আপনার যৌন বা দাম্পত্য জীবনে অস্বস্তি তৈরি করছে কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম
পেলভিক হেলথ ফিজিও
BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা
সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট