অনেক পুরুষ মনে করেন, স্ত্রী তৃপ্ত না হলে কারণ একটাই: সময় কম, বা জোর কম। তাই তারা আরও বেশিক্ষণ, আরও জোরে চেষ্টা করেন। কিন্তু আসল সমস্যা অনেক সময় অন্য জায়গায়। সমস্যা হলো কোথায় ছোঁয়া লাগছে আর কোন দিকে চাপ পড়ছে।
চলুন সহজ করে বুঝি।
গবেষণা কী বলছে
আমেরিকায় ১,০৫৫ জন নারীর ওপর একটা বড় জরিপ হয়েছিল। সেখানে দেখা গেছে:
মাত্র প্রতি ৫ জনে ১ জন নারী শুধু সহবাসেই চরম তৃপ্তি পান
প্রায় ৩ জনে ১ জনের ক্ষেত্রে ক্লিটোরিসে ছোঁয়া না লাগলে তৃপ্তি আসেই না
আরও ৩ জনে ১ জন বলেছেন, ছোঁয়া লাগলে অনুভূতি অনেক ভালো হয়
মানে, স্ত্রী তৃপ্তি না পেলে আপনি দুর্বল, এমন না। এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার। আর এর সমাধানও আছে।
ক্লিটোরিস কী, আর কেন জরুরি
ক্লিটোরিস হলো নারীর শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা। বাইরে এর ছোট একটা অংশ দেখা যায়, কিন্তু বেশিরভাগটা ভেতরে থাকে।
শুধু ভেতর-বাইরে করলে এই জায়গায় ঠিকমতো ছোঁয়া লাগে না। তাই:
লম্বা, গভীর ধাক্কার চেয়ে ঘষা বা দোলানো বেশি কাজে দেয়
ওপরের দিকে, হাড়ের দিকে হালকা চাপ লাগলে ভালো হয়
ছোঁয়াটা থেমে থেমে না, একটানা থাকা দরকার
৩টি পজিশন যা কাজে দিতে পারে
১. সাধারণ পজিশন, একটু ওপরে সরে গিয়ে
স্বাভাবিক পজিশনেই থাকুন, শুধু নিজের শরীরটা একটু ওপরের দিকে সরিয়ে নিন। আপনার বুক যেন তার কাঁধের কাছে থাকে।
এবার জোরে ধাক্কা না দিয়ে ছোট ছোট করে কোমর দোলান, ঘষুন। এতে আপনার শরীর তার সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গায় লেগে থাকবে।
এই পদ্ধতি নিয়ে ১৯৮৮ সালে একটা গবেষণা হয়েছিল। যারা এটা শিখেছিলেন, তাদের স্ত্রীরা বেশি তৃপ্তি পেয়েছেন। তবে গবেষণাটা ছোট ছিল (মাত্র ৮৬ জন), তাই একে শেষ কথা ধরবেন না।
২. স্ত্রী ওপরে, মুখোমুখি
এই পজিশনে কতটা গভীরে, কত জোরে, কোন দিকে, সব সে নিজে ঠিক করতে পারে। তার শরীরে কী ভালো লাগে, সেটা সে-ই সবচেয়ে ভালো জানে।
আপনার কাজ শুধু স্থির থাকা। নিচ থেকে জোরে ধাক্কা দিলে উল্টো তার ছন্দ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
৩. বসে, মুখোমুখি
আপনি বসবেন, সে আপনার কোলে আপনার দিকে মুখ করে বসবে। দুজনের শরীর একদম কাছে থাকবে। তারপর একসাথে ধীরে ধীরে দোলান।
এখানে চোখে চোখ রাখা আর জড়িয়ে ধরা খুব কাজের। অনেক নারীর জন্য মনের এই কাছাকাছি থাকাটা শরীরের ছোঁয়ার মতোই জরুরি।
পজিশনের চেয়েও বড় কথা
তাড়াহুড়া করবেন না। শুরুর আগে আদর আর সময় দিন। তার শরীর তৈরি হতে সময় লাগে। এতে ব্যথাও কম হয়।
জিজ্ঞেস করুন। সব নারী এক রকম না। একজনের যেটা ভালো লাগে, আরেকজনের সেটা না-ও লাগতে পারে। এভাবে ভালো লাগছে? এই ছোট্ট প্রশ্নটাই অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।
হাত ব্যবহার করতে লজ্জা পাবেন না। সহবাসের সময় হাত দিয়ে সংবেদনশীল জায়গায় আদর করা একদম স্বাভাবিক। অনেক দম্পতির জন্য এটাই সবচেয়ে সহজ উপায়।
যদি সমস্যা আপনার শরীরে হয়
এই পজিশনগুলোতে ধীরে, ধৈর্য নিয়ে থাকতে হয়। কিন্তু যাদের তাড়াতাড়ি বীর্যপাত হয়ে যায়, বা লিঙ্গ শক্ত ধরে রাখতে সমস্যা হয়, তাদের জন্য এটা কঠিন।
এর পেছনে অনেক সময় কোমরের নিচের পেশির (পেলভিক ফ্লোর) দুর্বলতা বা অতিরিক্ত টান, রক্ত চলাচলের সমস্যা, বা দুশ্চিন্তা থাকে। ঠিকমতো পরীক্ষা করে চিকিৎসা নিলে এগুলো অনেকটাই ভালো হয়। লজ্জা না পেয়ে একজন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
যে স্বামীকে স্ত্রী মনে রাখে, সে শুধু শক্তি দিয়ে না, বোঝাপড়া, ধৈর্য আর মনোযোগ দিয়ে সেটা অর্জন করে। জোর বাড়ানোর আগে জানুন কোথায় আর কীভাবে।
তথ্যসূত্র:
Herbenick D, Fu TJ, Arter J, Sanders SA, Dodge B. Women's Experiences With Genital Touching, Sexual Pleasure, and Orgasm: Results From a U.S. Probability Sample of Women Ages 18 to 94. J Sex Marital Ther. 2018;44(2):201-212. doi:10.1080/0092623X.2017.1346530
Eichel EW, Eichel JD, Kule S. The technique of coital alignment and its relation to female orgasmic response and simultaneous orgasm. J Sex Marital Ther. 1988;14(2):129-41. doi:10.1080/00926238808403913
ডা. তরিকুল ইসলাম, পিটি
পেলভিক হেলথ এন্ড মাস্কুলোস্কেলেটাল ফিজিও
The Pelvic Physio, বনানী