উত্থান, দ্রুত বীর্যপাত ও প্রস্টেট সমস্যায় আকুপাংচার
পুরুষের যৌন বা প্রস্রাবের সমস্যা হলেই কি আকুপাংচার করা যায়?
আকুপাংচার (Acupuncture) একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে শরীরের নির্দিষ্ট জায়গায় খুব চিকন সূঁচ ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি মূল চিকিৎসার পাশাপাশি সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তবে ইরেকটাইল ডিসফাংশন, দ্রুত বীর্যপাত বা প্রস্টেটের সমস্যার একমাত্র বা নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে আকুপাংচারকে দেখা ঠিক নয়।
উত্থান সমস্যায় আকুপাংচার
ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ED) হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে।
যেমন—
— ডায়াবেটিস
— রক্তনালীর সমস্যা
— স্নায়ুর সমস্যা
— হরমোনের সমস্যা
— কিছু ওষুধ
— মানসিক চাপ বা পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটি
কিছু গবেষণায় বিশেষ করে মানসিক বা মিশ্র কারণের ED-তে আকুপাংচারের সম্ভাব্য উপকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে এখনো প্রমাণ সীমিত এবং সবার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যায় না।
তাই ED হলে আগে কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দ্রুত বীর্যপাতের ক্ষেত্রে
দ্রুত বীর্যপাতের (Premature Ejaculation) চিকিৎসাতেও কিছু গবেষণায় আকুপাংচার নিয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
তবে বর্তমানে এটিকে একক প্রধান চিকিৎসা হিসেবে ধরে নেওয়ার মতো শক্ত প্রমাণ নেই।
রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিহ্যাভিওরাল টেকনিক, পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব, কাউন্সেলিং এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের পাশাপাশি আকুপাংচার সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
প্রস্টেট সমস্যায় আকুপাংচার
“প্রস্টেট সমস্যা” বলতে অনেক ধরনের সমস্যা বোঝানো হতে পারে।
প্রস্টেট বড় হওয়া (BPH), দীর্ঘদিনের পেলভিক ব্যথা বা Chronic Prostatitis/Chronic Pelvic Pain Syndrome—সবগুলোর চিকিৎসা এক নয়।
বিশেষ করে দীর্ঘদিনের পেলভিক ব্যথার কিছু রোগীর ক্ষেত্রে আকুপাংচার ব্যথা ও কিছু urinary symptom কমাতে সহায়ক হতে পারে।
কিন্তু আকুপাংচার বড় হয়ে যাওয়া প্রস্টেটকে ছোট করে দেয়—এমন দাবি করা ঠিক নয়।
আকুপাংচারের সঙ্গে আর কী প্রয়োজন হতে পারে?
সমস্যার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসায় আরও থাকতে পারে—
— পেলভিক ফ্লোর ফিজিওথেরাপি
— পেলভিক ফ্লোর রিলাক্সেশন বা ট্রেনিং
— ব্লাডার ট্রেনিং
— বিহ্যাভিওরাল টেকনিক
— নিয়মিত ব্যায়াম ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন
— প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরোলজিস্ট বা চিকিৎসকের চিকিৎসা
অর্থাৎ একটি থেরাপির ওপর নির্ভর না করে সমস্যার কারণ অনুযায়ী সমন্বিত চিকিৎসাই গুরুত্বপূর্ণ।
কার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবে রক্ত, জ্বরের সঙ্গে প্রস্রাবে ব্যথা, হঠাৎ অণ্ডকোষে তীব্র ব্যথা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ থাকলে আগে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
মূল কথা: আকুপাংচার কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু আগে সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম
পেলভিক হেলথ ফিজিও
BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা
সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট