ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ED): লিঙ্গ শক্ত হতে বা শক্ত ধরে রাখতে সমস্যা হলে কী করবেন?
“আগের মতো শক্ত হচ্ছে না।”
“শক্ত হয়, কিন্তু সহবাসের সময় নরম হয়ে যায়।”
এমন হলে দুশ্চিন্তা হওয়াই স্বাভাবিক। অনেকে লজ্জায় কাউকে বলেন না। মনে মনে ভাবেন, “আমার কি আর ভালো হবে না?”
আশার কথা হলো, কারণ বুঝে চিকিৎসা নিলে অনেকেরই ইরেকশনের উন্নতি হয়। তাই নিজেকে দোষ না দিয়ে সমস্যাটা বোঝা জরুরি।
ইরেকটাইল ডিসফাংশন কী?
সহবাসের জন্য লিঙ্গ যথেষ্ট শক্ত না হওয়া, অথবা প্রয়োজনমতো শক্ত ধরে রাখতে বারবার সমস্যা হওয়াকে ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা ইডি (ED) বলা হয়।
এক-দুই দিন এমন হলেই যে আপনার ইডি হয়েছে, তা নয়। ক্লান্তি, মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত অ্যালকোহলের কারণেও সাময়িক সমস্যা হতে পারে। কিন্তু বারবার হলে পরামর্শ নেওয়া দরকার।
কী কী কারণে এমন হতে পারে?
ইরেকশনের জন্য রক্তনালী, স্নায়ু, হরমোন ও মনের অবস্থা—সবকিছুরই ভূমিকা আছে। একসঙ্গে একাধিক কারণও থাকতে পারে।
- ডায়াবেটিস: দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে স্নায়ু ও রক্তনালীর ক্ষতি হতে পারে। এতে ইরেকশনে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- রক্তনালীর সমস্যা: উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ধূমপানের কারণে লিঙ্গে রক্ত চলাচলে সমস্যা হতে পারে।
- হরমোনের সমস্যা: টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া বা থাইরয়েডের সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ইরেকশনের সমস্যা মানেই টেস্টোস্টেরন কম—এমন নয়।
- মানসিক চাপ: “আজও যদি না পারি”—এই ভয়, উদ্বেগ, মন খারাপ বা সম্পর্কের টানাপোড়েন সমস্যাটা বাড়াতে পারে।
- কিছু ওষুধ, অসুখ বা অপারেশন: কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, স্নায়ুর অসুখ কিংবা পেলভিক অঞ্চলে অপারেশনের পরও ইরেকশনে পরিবর্তন আসতে পারে।
বয়স বাড়লে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে বয়সের কথা ভেবে সমস্যাটা মেনে নিয়ে চুপ থাকার প্রয়োজন নেই। কম বয়সেও ইডি হতে পারে।
কেন সমস্যাটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার?
ইডি কখনও ডায়াবেটিস বা রক্তনালীর সমস্যার একটি সংকেত হতে পারে। নতুন করে সমস্যা শুরু হলে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইডি হয়েছে মানেই হৃদ্রোগ আছে—এমন নয়।
কারণ জানার জন্য কী দেখা হয়?
চিকিৎসক সাধারণত জানতে চান—
- কতদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে এবং সবসময় হয় কি না।
- শক্ত হতে সমস্যা, নাকি শক্ত ধরে রাখতে সমস্যা।
- সকালে বা অন্য সময়ে স্বাভাবিক ইরেকশন হয় কি না।
- যৌন আগ্রহ, মানসিক চাপ ও সম্পর্কের অবস্থা কেমন।
- ডায়াবেটিসসহ অন্য অসুখ আছে কি না এবং কী কী ওষুধ খান।
শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি রক্তে শর্করা বা এইচবিএওয়ানসি (HbA1c), কোলেস্টেরল এবং সকালে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা লাগতে পারে। আগের রিপোর্ট ও উপসর্গ দেখে চিকিৎসক প্রয়োজন ঠিক করবেন। সবার শুরুতেই পেনাইল ডপলার লাগে না।
চিকিৎসায় কী কী করা যায়?
কারণ অনুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা বদলায়। কারও একটি পদ্ধতিতে উপকার হয়, আবার কারও কয়েকটি পদ্ধতি একসঙ্গে প্রয়োজন হয়।
দৈনন্দিন অভ্যাস ঠিক করা
নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, ধূমপান বন্ধ করা, স্বাস্থ্যকর খাবার ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা উপকারী। পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
প্রয়োজনে ওষুধ
চিকিৎসক প্রয়োজন বুঝে ইরেকশনের ওষুধ দিতে পারেন। এগুলো লিঙ্গে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে। নিজের মতো ওষুধ শুরু করা বা চলতি কোনো ওষুধ বন্ধ করা ঠিক নয়।
বিশেষ করে বুকের ব্যথার জন্য ব্যবহৃত নাইট্রেট ওষুধের সঙ্গে সিলডেনাফিল বা টাডালাফিল নিলে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে।
মানসিক চাপের যত্ন
উদ্বেগ বা সহবাস নিয়ে ভয় থাকলে কাউন্সেলিং কাজে আসতে পারে। সঙ্গীর সঙ্গে চাপমুক্তভাবে কথা বলাও চিকিৎসার একটি অংশ হতে পারে। প্রয়োজন হলে ভ্যাকুয়াম ডিভাইস, ইনজেকশন বা অন্য চিকিৎসা নিয়ে ইউরোলজিস্ট আলোচনা করতে পারেন।
পেলভিক ফিজিওথেরাপি কীভাবে সাহায্য করতে পারে?
পেলভিক ফ্লোর হলো তলপেটের নিচে থাকা একদল পেশি। যৌনস্বাস্থ্যেও এই পেশিগুলোর ভূমিকা আছে। সঠিকভাবে শেখানো পেলভিক ফ্লোর ব্যায়াম কিছু পুরুষের ইরেকশন উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে গবেষণার সীমাবদ্ধতা আছে; সবার একই ফল হবে না।
তাই ইডি হলেই নিজে থেকে বেশি বেশি কেগেল শুরু করবেন না।
পেশি দুর্বল কি না, অতিরিক্ত টান আছে কি না এবং ঠিকভাবে পেশি ছেড়ে দিতে পারছেন কি না—এসব দেখা দরকার। ব্যথা বা অতিরিক্ত টান থাকলে পেশি শিথিল করা, শ্বাসের ব্যায়াম ও প্রয়োজনমতো ফিজিওথেরাপিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পেলভিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার একটি অংশ হতে পারে। পাশাপাশি রক্তনালী, হরমোন বা অন্য সমস্যার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিতে হবে।
শকওয়েভ থেরাপি কি সবার জন্য?
রক্তনালীর কারণে হওয়া ইডি রোগীর ক্ষেত্রে কম তীব্রতার শকওয়েভ থেরাপিতে উন্নতি হতে পারে।
ইডি কি ভালো হয়?
অনেকেরই চিকিৎসায় উন্নতি হয়। কারও মূল কারণের চিকিৎসায় সমস্যা অনেকটা কমে আসে, আবার কারও নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। তাই সবার ফল বা ভালো হওয়ার সময় এক হবে না।
আপনারও যদি বারবার লিঙ্গ শক্ত হতে বা শক্ত ধরে রাখতে সমস্যা হয়, একজন চিকিৎসক বা ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। পেলভিক পেশির মূল্যায়নের প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষিত পেলভিক হেলথ ফিজিওথেরাপিস্টের সাহায্য নিতে পারেন।
সমস্যা লুকিয়ে রাখার বদলে কারণটা জানাই হতে পারে ভালো হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।
পেলভিক হেলথ মূল্যায়ন ও ফিজিওথেরাপি সম্পর্কে জানতে drtarikul.com-এর অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা যোগাযোগের অংশ দেখুন।
ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম
পেলভিক হেলথ ফিজিও
BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা
সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিস্ট