পুরুষদের পেলভিক হেলথ ফিজিওথেরাপি
ইরেকটাইল ডিসফাংশন, দ্রুত বীর্যপাত, ঘন প্রস্রাব ও প্রস্টেট সমস্যা, পেলভিক ফ্লোর দুর্বলতা — বৈজ্ঞানিক ও প্রমাণভিত্তিক ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানে আমরা আছি আপনার পাশে।
ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ED): লিঙ্গ শক্ত হতে বা শক্ত ধরে রাখতে সমস্যা হলে কী করবেন? “আগের মতো শক্ত হচ্ছে না।” “শক্ত হয়, কিন্তু সহবাসের সময় নরম হয়ে যায়।” এমন হলে দুশ্চিন্তা হওয়াই স্বাভাবিক। অনেকে লজ্জায় কাউকে বলেন না। মনে মনে ভাবেন, “আমার কি আর ভালো হবে না?” আশার কথা হলো, কারণ বুঝে চিকিৎসা নিলে অনেকেরই ইরেকশনের উন্নতি হয়। তাই নিজেকে দোষ না দিয়ে সমস্যাটা বোঝা জরুরি। ইরেকটাইল ডিসফাংশন কী? সহবাসের জন্য লিঙ্গ যথেষ্ট শক্ত না হওয়া, অথবা প্রয়োজনমতো শক্ত ধরে রাখতে বারবার সমস্যা হওয়াকে ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা ইডি (ED) বলা হয়। এক-দুই দিন এমন হলেই যে আপনার ইডি হয়েছে, তা নয়। ক্লান্তি, মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত অ্যালকোহলের কারণেও সাময়িক সমস্যা হতে পারে। কিন্তু বারবার হলে পরামর্শ নেওয়া দরকার। কী কী কারণে এমন হতে পারে? ইরেকশনের জন্য রক্তনালী, স্নায়ু, হরমোন ও মনের অবস্থা—সবকিছুরই ভূমিকা আছে। একসঙ্গে একাধিক কারণও থাকতে পারে। - ডায়াবেটিস: দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে স্নায়ু ও রক্তনালীর ক্ষতি হতে পারে। এতে ইরেকশনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। - রক্তনালীর সমস্যা: উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ধূমপানের কারণে লিঙ্গে রক্ত চলাচলে সমস্যা হতে পারে। - হরমোনের সমস্যা: টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া বা থাইরয়েডের সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ইরেকশনের সমস্যা মানেই টেস্টোস্টেরন কম—এমন নয়। - মানসিক চাপ: “আজও যদি না পারি”—এই ভয়, উদ্বেগ, মন খারাপ বা সম্পর্কের টানাপোড়েন সমস্যাটা বাড়াতে পারে। - কিছু ওষুধ, অসুখ বা অপারেশন: কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, স্নায়ুর অসুখ কিংবা পেলভিক অঞ্চলে অপারেশনের পরও ইরেকশনে পরিবর্তন আসতে পারে। বয়স বাড়লে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে বয়সের কথা ভেবে সমস্যাটা মেনে নিয়ে চুপ থাকার প্রয়োজন নেই। কম বয়সেও ইডি হতে পারে। কেন সমস্যাটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার? ইডি কখনও ডায়াবেটিস বা রক্তনালীর সমস্যার একটি সংকেত হতে পারে। নতুন করে সমস্যা শুরু হলে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইডি হয়েছে মানেই হৃদ্রোগ আছে—এমন নয়। কারণ জানার জন্য কী দেখা হয়? চিকিৎসক সাধারণত জানতে চান— - কতদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে এবং সবসময় হয় কি না। - শক্ত হতে সমস্যা, নাকি শক্ত ধরে রাখতে সমস্যা। - সকালে বা অন্য সময়ে স্বাভাবিক ইরেকশন হয় কি না। - যৌন আগ্রহ, মানসিক চাপ ও সম্পর্কের অবস্থা কেমন। - ডায়াবেটিসসহ অন্য অসুখ আছে কি না এবং কী কী ওষুধ খান। শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি রক্তে শর্করা বা এইচবিএওয়ানসি (HbA1c), কোলেস্টেরল এবং সকালে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা লাগতে পারে। আগের রিপোর্ট ও উপসর্গ দেখে চিকিৎসক প্রয়োজন ঠিক করবেন। সবার শুরুতেই পেনাইল ডপলার লাগে না। চিকিৎসায় কী কী করা যায়? কারণ অনুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা বদলায়। কারও একটি পদ্ধতিতে উপকার হয়, আবার কারও কয়েকটি পদ্ধতি একসঙ্গে প্রয়োজন হয়। দৈনন্দিন অভ্যাস ঠিক করা নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, ধূমপান বন্ধ করা, স্বাস্থ্যকর খাবার ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা উপকারী। পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে ওষুধ চিকিৎসক প্রয়োজন বুঝে ইরেকশনের ওষুধ দিতে পারেন। এগুলো লিঙ্গে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে। নিজের মতো ওষুধ শুরু করা বা চলতি কোনো ওষুধ বন্ধ করা ঠিক নয়। বিশেষ করে বুকের ব্যথার জন্য ব্যবহৃত নাইট্রেট ওষুধের সঙ্গে সিলডেনাফিল বা টাডালাফিল নিলে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। মানসিক চাপের যত্ন উদ্বেগ বা সহবাস নিয়ে ভয় থাকলে কাউন্সেলিং কাজে আসতে পারে। সঙ্গীর সঙ্গে চাপমুক্তভাবে কথা বলাও চিকিৎসার একটি অংশ হতে পারে। প্রয়োজন হলে ভ্যাকুয়াম ডিভাইস, ইনজেকশন বা অন্য চিকিৎসা নিয়ে ইউরোলজিস্ট আলোচনা করতে পারেন। পেলভিক ফিজিওথেরাপি কীভাবে সাহায্য করতে পারে? পেলভিক ফ্লোর হলো তলপেটের নিচে থাকা একদল পেশি। যৌনস্বাস্থ্যেও এই পেশিগুলোর ভূমিকা আছে। সঠিকভাবে শেখানো পেলভিক ফ্লোর ব্যায়াম কিছু পুরুষের ইরেকশন উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে গবেষণার সীমাবদ্ধতা আছে; সবার একই ফল হবে না। তাই ইডি হলেই নিজে থেকে বেশি বেশি কেগেল শুরু করবেন না। পেশি দুর্বল কি না, অতিরিক্ত টান আছে কি না এবং ঠিকভাবে পেশি ছেড়ে দিতে পারছেন কি না—এসব দেখা দরকার। ব্যথা বা অতিরিক্ত টান থাকলে পেশি শিথিল করা, শ্বাসের ব্যায়াম ও প্রয়োজনমতো ফিজিওথেরাপিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পেলভিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার একটি অংশ হতে পারে। পাশাপাশি রক্তনালী, হরমোন বা অন্য সমস্যার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিতে হবে। শকওয়েভ থেরাপি কি সবার জন্য? রক্তনালীর কারণে হওয়া ইডি রোগীর ক্ষেত্রে কম তীব্রতার শকওয়েভ থেরাপিতে উন্নতি হতে পারে। ইডি কি ভালো হয়? অনেকেরই চিকিৎসায় উন্নতি হয়। কারও মূল কারণের চিকিৎসায় সমস্যা অনেকটা কমে আসে, আবার কারও নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। তাই সবার ফল বা ভালো হওয়ার সময় এক হবে না। আপনারও যদি বারবার লিঙ্গ শক্ত হতে বা শক্ত ধরে রাখতে সমস্যা হয়, একজন চিকিৎসক বা ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। পেলভিক পেশির মূল্যায়নের প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষিত পেলভিক হেলথ ফিজিওথেরাপিস্টের সাহায্য নিতে পারেন। সমস্যা লুকিয়ে রাখার বদলে কারণটা জানাই হতে পারে ভালো হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। পেলভিক হেলথ মূল্যায়ন ও ফিজিওথেরাপি সম্পর্কে জানতে drtarikul.com-এর অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা যোগাযোগের অংশ দেখুন। ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম পেলভিক হেলথ ফিজিও BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিস্ট
বিস্তারিত দেখুন →দ্রুত বীর্যপাত: কেন হয় এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়? দ্রুত বীর্যপাত (Premature Ejaculation বা PE) পুরুষদের খুব পরিচিত একটি যৌন সমস্যা। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে লজ্জা পান বা মনে করেন এটি কোনো “দুর্বলতা”। আসলে বিষয়টি এতটা সরল নয়। যদি বারবার নিজের ইচ্ছার আগেই বীর্যপাত হয়ে যায়, নিয়ন্ত্রণ করতে কষ্ট হয় এবং এর কারণে নিজের বা সঙ্গীর মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়—তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। দ্রুত বীর্যপাত কেন হতে পারে? একজনের সঙ্গে আরেকজনের কারণ এক নাও হতে পারে। সম্ভাব্য কারণের মধ্যে রয়েছে— — অতিরিক্ত উত্তেজনা বা পারফরম্যান্স নিয়ে দুশ্চিন্তা — মানসিক চাপ ও উদ্বেগ — দীর্ঘদিন দ্রুত শেষ করার অভ্যাস — ইরেকশন ধরে রাখতে সমস্যা — সম্পর্কের চাপ বা যৌনতা নিয়ে ভয় — পেলভিক ফ্লোর পেশির অতিরিক্ত টান বা সমন্বয়ের সমস্যা — কিছু ক্ষেত্রে হরমোন, থাইরয়েড বা প্রোস্টেট-সংক্রান্ত সমস্যা তাই শুধু “সময় বাড়ানোর” চেষ্টা না করে আগে কারণটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। কত মিনিট হলে দ্রুত বীর্যপাত বলা হয়? শুধু ঘড়ি ধরে সময় মাপলেই PE নির্ণয় করা যায় না। বিশেষ করে শুরু থেকেই থাকা সমস্যার ক্ষেত্রে যোনিপথে প্রবেশের প্রায় ১ মিনিটের মধ্যে নিয়মিত বীর্যপাত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। তবে এর সঙ্গে বীর্যপাত দেরি করাতে না পারা এবং বিষয়টি নিয়ে মানসিক চাপ বা সম্পর্কের সমস্যা হচ্ছে কি না—সেটাও বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ কারও ২–৩ মিনিট হলেই যে অবশ্যই রোগ আছে, এমন নয়। পেলভিক ফ্লোরের ভূমিকা কী? বীর্যপাতের সময় পেলভিক ফ্লোরের পেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারও এই পেশি দুর্বল হতে পারে, আবার কারও পেশি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি টানটান থাকতে পারে। পেশির নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়েও সমস্যা থাকতে পারে। এ কারণে সবাইকে নিজের মতো করে শুধু কেগেল এক্সারসাইজ শুরু করতে বলা ঠিক নয়। আগে পেলভিক ফ্লোরের অবস্থা মূল্যায়ন করা ভালো। চিকিৎসা কীভাবে করা হয়? চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণের ওপর। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হতে পারে— — যৌন ও আচরণগত কাউন্সেলিং — বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন বিহেভিয়ারাল কৌশল — পেলভিক ফ্লোর ফিজিওথেরাপি — পেশির রিলাক্সেশন ও নিয়ন্ত্রণ শেখানো — প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ব্যায়াম — উদ্বেগ বা পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটি থাকলে তার ব্যবস্থাপনা — চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ওষুধ অনেক ক্ষেত্রে একটির পরিবর্তে কয়েকটি পদ্ধতি একসঙ্গে ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। দ্রুত বীর্যপাত কি ভালো হতে পারে? অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করা সম্ভব। তবে সবার কারণ ও চিকিৎসা এক নয়। অনলাইনে দেখা কোনো একটি ব্যায়াম, স্প্রে বা ওষুধ সবার জন্য সমানভাবে কাজ করবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। সমস্যাটি নিয়মিত হলে সঠিক মূল্যায়ন করে কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই ভালো। দ্রুত বীর্যপাত নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। এটি একটি পরিচিত সমস্যা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা ও পেলভিক হেলথ ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে সাহায্য নেওয়া যায়। ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম পেলভিক হেলথ ফিজিও BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট
বিস্তারিত দেখুন →পেলভিক ফ্লোর দুর্বল হলে কী কী সমস্যা হতে পারে? অনেকেই পেলভিক ফ্লোর পেশির কথা জানেন না। অথচ প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ, পায়খানা নিয়ন্ত্রণ এবং যৌনস্বাস্থ্যের সঙ্গে এই পেশিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। সহজ করে বললে, পেলভিক ফ্লোর হলো পেলভিসের নিচের দিকে থাকা একদল পেশি। এগুলো মূত্রাশয়, অন্ত্রসহ পেলভিক অঙ্গগুলোকে সাপোর্ট দেয়। পেলভিক ফ্লোর দুর্বল হলে কীভাবে বুঝবেন? কিছু সাধারণ লক্ষণ হতে পারে— — কাশি বা হাঁচির সময় প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়া — প্রস্রাব ধরে রাখতে কষ্ট হওয়া — বারবার প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা — প্রস্রাবের পরও পুরোপুরি খালি হয়নি মনে হওয়া — পায়খানা বা গ্যাস নিয়ন্ত্রণে সমস্যা — যৌনক্রিয়ার সময় পেশির নিয়ন্ত্রণ কম মনে হওয়া — পুরুষদের ক্ষেত্রে কিছু যৌন সমস্যার সঙ্গে পেলভিক ফ্লোরের দুর্বলতা যুক্ত থাকতে পারে তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে পেলভিক ফ্লোর দুর্বল—এটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অন্য কারণেও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে। পেলভিক ফ্লোর কেন দুর্বল হতে পারে? বয়স বাড়া, দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য ও অতিরিক্ত চাপ দেওয়া, দীর্ঘদিনের কাশি, অতিরিক্ত ওজন, কিছু অপারেশন বা প্রোস্টেট সার্জারির পর পেলভিক ফ্লোরের কার্যক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে পেশি দুর্বল নয়, বরং অতিরিক্ত টাইট থাকে। দুর্বল ও অতিরিক্ত টাইট পেলভিক ফ্লোরের চিকিৎসা এক নয়। কেগেল করলেই কি ঠিক হয়ে যাবে? সবসময় নয়। কেগেল (Kegel Exercise) মূলত পেলভিক ফ্লোর পেশির একটি নির্দিষ্ট ধরনের ব্যায়াম। পেশি সত্যিই দুর্বল হলে সঠিক নিয়মে করা কেগেল উপকারী হতে পারে। কিন্তু পেশি আগে থেকেই অতিরিক্ত টাইট থাকলে নিজের মতো করে বেশি বেশি কেগেল করলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। তাই প্রথমে বোঝা দরকার—পেশি দুর্বল, বেশি টাইট, নাকি পেশির নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ে সমস্যা আছে। পেলভিক ফ্লোর ফিজিওথেরাপিতে কী করা হয়? প্রথমে রোগীর সমস্যা ও লক্ষণ বিস্তারিতভাবে জানা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী পেলভিক ফ্লোরের শক্তি, টান, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় মূল্যায়ন করা হয়। এরপর সমস্যার ধরন অনুযায়ী পেলভিক ফ্লোর ট্রেনিং, রিলাক্সেশন, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, ব্লাডার ট্রেনিং, জীবনযাত্রার পরিবর্তন বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় রিহ্যাব দেওয়া হতে পারে। সবার জন্য একই ব্যায়াম নয়—সঠিক সমস্যার জন্য সঠিক ব্যায়ামটাই গুরুত্বপূর্ণ। ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম পেলভিক হেলথ ফিজিও BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট
বিস্তারিত দেখুন →প্রস্টেট ও প্রস্রাবের সমস্যা: কখন গুরুত্ব দেবেন? বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেক পুরুষের প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন আসে। বারবার প্রস্রাব লাগছে, রাতে কয়েকবার উঠতে হচ্ছে, প্রস্রাব শুরু হতে সময় লাগছে বা আগের মতো জোরে হচ্ছে না—এসব সমস্যার পেছনে প্রস্টেটের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে প্রস্রাবের সমস্যা মানেই প্রস্টেটের সমস্যা নয়। মূত্রাশয়, ইউরিন ইনফেকশন, ডায়াবেটিস, কিছু ওষুধ বা পেলভিক ফ্লোরের সমস্যাতেও একই ধরনের লক্ষণ হতে পারে। প্রস্টেট কী? প্রস্টেট পুরুষদের একটি ছোট গ্রন্থি, যা মূত্রাশয়ের ঠিক নিচে থাকে এবং প্রস্রাবের নালীর একটি অংশকে ঘিরে রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেক পুরুষের প্রস্টেট ধীরে ধীরে বড় হতে পারে। একে সাধারণভাবে Benign Prostatic Hyperplasia (BPH) বলা হয়। প্রস্টেট বড় হলে কারও কারও প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা তৈরি হতে পারে। কোন লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে? — ঘন ঘন প্রস্রাব লাগা — রাতে বারবার প্রস্রাব করতে ওঠা — হঠাৎ খুব জোরে প্রস্রাবের চাপ আসা — প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া — প্রস্রাবের গতি বা জোর কমে যাওয়া — থেমে থেমে প্রস্রাব হওয়া — প্রস্রাব করার পরও কিছু থেকে গেছে মনে হওয়া — প্রস্রাব শেষে ফোঁটা ফোঁটা পড়া এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে শুধু বয়সের কারণে হচ্ছে ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। সব সমস্যাই কি প্রস্টেট বড় হওয়ার কারণে? না। Overactive Bladder, ইউরিন ইনফেকশন, ডায়াবেটিস, মূত্রাশয়ের সমস্যা, পেলভিক ফ্লোরের অতিরিক্ত টান বা দুর্বলতা এবং কিছু ওষুধের কারণেও প্রস্রাবের সমস্যা হতে পারে। তাই চিকিৎসার আগে সমস্যার আসল কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। পেলভিক ফ্লোর ফিজিওথেরাপি কোথায় কাজে আসতে পারে? সব ধরনের প্রস্টেট সমস্যার চিকিৎসা ফিজিওথেরাপি নয়। তবে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, হঠাৎ প্রস্রাবের চাপ, কিছু ধরনের urinary leakage এবং প্রস্টেট অপারেশনের পর প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যার ক্ষেত্রে পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী পেলভিক ফ্লোর ট্রেনিং, পেশি রিলাক্সেশন, ব্লাডার ট্রেনিং, শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল ও জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন শেখানো হতে পারে। নিজে থেকে শুধু কেগেল শুরু করাও সবসময় ঠিক নয়। কারও পেশি দুর্বল, আবার কারও অতিরিক্ত টাইট থাকতে পারে। আগে সমস্যার ধরন বোঝা দরকার। কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন? প্রস্রাব একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলে, প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে, জ্বরের সঙ্গে প্রস্রাবে তীব্র জ্বালা বা ব্যথা হলে কিংবা তীব্র তলপেটের ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রস্টেট বা প্রস্রাবের সমস্যা নিয়ে লজ্জা পাওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিকভাবে মূল্যায়ন করলে সমস্যার কারণ বোঝা এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা করা সহজ হয়। ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম পেলভিক হেলথ ফিজিও BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট
বিস্তারিত দেখুন →পেলভিক ব্যথা: কেন হয় এবং কী করা উচিত? তলপেট, কুঁচকি, অণ্ডথলি, পায়ুপথের আশপাশ বা দুই পায়ের মাঝের অংশে বারবার ব্যথা বা অস্বস্তি হচ্ছে? অনেকেই এটাকে শুধু প্রস্টেটের সমস্যা মনে করেন। কিন্তু পেলভিক এলাকায় ব্যথার কারণ অনেক হতে পারে। পেশি, স্নায়ু, মূত্রাশয়, প্রস্টেট বা পেলভিক ফ্লোরের সমস্যার সঙ্গেও এই ব্যথা সম্পর্কিত হতে পারে। পেলভিক ব্যথা কোথায় অনুভূত হতে পারে? পুরুষদের ক্ষেত্রে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে— — তলপেটে — কুঁচকিতে — অণ্ডথলি বা অণ্ডকোষের আশপাশে — পেনিসের আশপাশে — পায়ুপথের কাছে — পেরিনিয়াম বা অণ্ডথলি ও পায়ুপথের মাঝের অংশে — কোমর বা নিতম্বের আশপাশে কারও ব্যথা সবসময় থাকে, আবার কারও দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, প্রস্রাব, পায়খানা বা যৌনক্রিয়ার সময় বাড়তে পারে। পেলভিক ব্যথা কেন হতে পারে? একটি নির্দিষ্ট কারণ সবসময় পাওয়া যায় না। সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে— — পেলভিক ফ্লোর পেশি অতিরিক্ত টাইট হয়ে থাকা — পেশির সঠিকভাবে রিলাক্স করতে না পারা — দীর্ঘসময় বসে থাকা — কোমর, হিপ বা আশপাশের পেশি ও জয়েন্টের সমস্যা — স্নায়ুতে জ্বালা বা চাপ — দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য — মূত্রনালী বা প্রস্টেটের কিছু সমস্যা — মানসিক চাপের কারণে পেশির টান বেড়ে যাওয়া তাই শুধু ব্যথার জায়গা দেখে কারণ ঠিক করা যায় না। পেলভিক ফ্লোর টাইট থাকলেও কি ব্যথা হয়? হ্যাঁ। অনেকেই মনে করেন পেলভিক ফ্লোরের সমস্যা মানেই পেশি দুর্বল। আসলে পেশি অতিরিক্ত টাইট থাকলেও ব্যথা, প্রস্রাবের সমস্যা বা যৌনক্রিয়ার সময় অস্বস্তি হতে পারে। এমন অবস্থায় নিজের মতো করে বেশি বেশি কেগেল করলে কিছু মানুষের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। পেলভিক ফ্লোর ফিজিওথেরাপি কীভাবে সাহায্য করতে পারে? প্রথমে ব্যথার ধরন এবং পেলভিক ফ্লোরের অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসায় থাকতে পারে— — পেলভিক ফ্লোর রিলাক্সেশন — শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম — প্রয়োজন অনুযায়ী পেশি ও জয়েন্টের চিকিৎসা — স্ট্রেচিং ও মুভমেন্ট ট্রেনিং — ব্লাডার ও বাওয়েল অভ্যাসের পরিবর্তন — ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফেরার পরিকল্পনা সবার চিকিৎসা এক নয়। কারও পেশি শক্তিশালী করা দরকার, আবার কারও আগে পেশির অতিরিক্ত টান কমানো দরকার। কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন? হঠাৎ অণ্ডকোষে তীব্র ব্যথা, অণ্ডকোষ ফুলে যাওয়া, জ্বর, প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা দ্রুত বাড়তে থাকা তীব্র ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে পেলভিক ব্যথা থাকলে শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে না থেকে কারণটা খুঁজে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম পেলভিক হেলথ ফিজিও BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট
বিস্তারিত দেখুন →পুরুষের যৌন স্বাস্থ্য: ভালো রাখতে কী জানা জরুরি? পুরুষের যৌন স্বাস্থ্য মানে শুধু ইরেকশন বা যৌনক্ষমতা নয়। যৌন ইচ্ছা, ইরেকশন, বীর্যপাতের নিয়ন্ত্রণ, হরমোন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পেলভিক ফ্লোর—সবকিছু মিলেই যৌন স্বাস্থ্য। কোনো একটি জায়গায় সমস্যা হলে তার প্রভাব যৌনজীবনেও পড়তে পারে। পুরুষদের সাধারণ যৌন সমস্যা কী কী? অনেক পুরুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। যেমন— — লিঙ্গ শক্ত হতে সমস্যা — শক্ত হলেও ধরে রাখতে না পারা — দ্রুত বীর্যপাত — যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া — যৌনক্রিয়ার সময় ব্যথা বা অস্বস্তি — বীর্যপাতের সময় সমস্যা — পেলভিক এলাকায় ব্যথা বা টান একবার-দুবার এমন হলেই যে রোগ আছে, তা নয়। কিন্তু সমস্যা নিয়মিত হলে কারণটা জানা দরকার। ইরেকশন দুর্বল হওয়ার কারণ কী? ইরেকশন মূলত রক্তপ্রবাহ, স্নায়ু, হরমোন ও মানসিক অবস্থার সমন্বয়ে হয়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তনালীর সমস্যা, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, কিছু ওষুধ, ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ বা পারফরম্যান্স নিয়ে ভয়—বিভিন্ন কারণে ইরেকশনে সমস্যা হতে পারে। তাই শুধু যৌনাঙ্গের সমস্যা হিসেবে না দেখে পুরো স্বাস্থ্যের দিকটাও দেখা প্রয়োজন। দ্রুত বীর্যপাত কেন হতে পারে? দ্রুত বীর্যপাতের পেছনেও একটি কারণ থাকে না। অতিরিক্ত উত্তেজনা, উদ্বেগ, বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণের অসুবিধা, ইরেকশন নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং কিছু ক্ষেত্রে পেলভিক ফ্লোর পেশির অতিরিক্ত টান বা নিয়ন্ত্রণের সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক কারণ বুঝে চিকিৎসা করলে অনেক ক্ষেত্রেই ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পেলভিক ফ্লোরের সঙ্গে যৌন স্বাস্থ্যের সম্পর্ক কী? পেলভিক ফ্লোরের পেশি ইরেকশন ও বীর্যপাতসহ পুরুষের যৌন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে পেলভিক ফ্লোরের সমস্যা মানেই পেশি দুর্বল—এটা ঠিক নয়। কারও পেশি দুর্বল হতে পারে, আবার কারও অতিরিক্ত টাইট থাকতে পারে। এ কারণেই সবার জন্য নিজের মতো করে কেগেল ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে আগে পেলভিক ফ্লোর মূল্যায়ন করা ভালো। যৌন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কী করবেন? নিয়মিত শরীরচর্চা করুন, পর্যাপ্ত ঘুমান, ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং ওজন, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন। একই সঙ্গে মানসিক চাপ কমানো এবং সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে অনলাইনের টোটকা বা নিজের মতো করে ওষুধ ব্যবহার না করে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নিন। কখন পরামর্শ নেওয়া উচিত? ইরেকশন, বীর্যপাত, যৌন ইচ্ছা, পেলভিক ব্যথা বা প্রস্রাবের সমস্যা যদি নিয়মিত হতে থাকে এবং ব্যক্তিগত বা দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে মূল্যায়ন করানো ভালো। লজ্জার কারণে সমস্যা লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। কারণটা ঠিকভাবে বোঝা গেলে চিকিৎসার পথও অনেক পরিষ্কার হয়। ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম পেলভিক হেলথ ফিজিও BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট
বিস্তারিত দেখুন →
ফোকাস শক ওয়েভ থেরাপি (Piezonia) ফোকাস শক ওয়েভ থেরাপি একটি আধুনিক, অপারেশন ছাড়া চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে নির্দিষ্ট ধরনের সাউন্ড ওয়েভ লিঙ্গের নির্দিষ্ট টিস্যুতে প্রয়োগ করা হয়। এর লক্ষ্য হলো নতুন রক্তনালী তৈরিতে সাহায্য করা এবং রক্ত চলাচল বাড়ানো। কাদের জন্য? পুরুষদের কিছু ধরনের ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ED), বিশেষ করে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার কারণে হলে, এবং পেলভিক অঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু সমস্যায় এই থেরাপি ব্যবহার করা হয়। আমাদের এখানে কেন আলাদা? আমরা Piezonia ফোকাস শক ওয়েভ ব্যবহার করি, যার দুটি হেড টিস্যুর ৫ মিলিমিটার ও ১৫ মিলিমিটার গভীরে কাজ করে। চিকিৎসা কীভাবে হয়? থেরাপির আগে আপনার সমস্যার কারণ ও শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট জায়গায় শক ওয়েভ দেওয়া হয়। কতগুলো সেশন লাগে? সাধারণত সপ্তাহে ১-২টি করে মোট ৬-১২টি সেশন লাগে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত নেই বললেই চলে। থেরাপির আগে আপনার স্বাস্থ্যগত অবস্থা দেখে নেওয়া হয়। ফলাফল: সবার ফলাফল এক হয় না। সমস্যার কারণ ও রোগীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। প্রয়োজনে শক ওয়েভের পাশাপাশি পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাবিলিটেশন, ব্যায়াম, জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও অন্যান্য চিকিৎসা যুক্ত করা হয়। খরচ ও বিস্তারিত জানতে কল করুন: 01939417429, +880 1349241785 গোপনীয়তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত।
বিস্তারিত দেখুন →
কেগেল চেয়ার থেরাপি: কী এবং কার জন্য ব্যবহার করা হয়? পেলভিক ফ্লোরের পেশি ঠিকমতো কাজ না করলে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাবের অংশ হিসেবে কেগেল চেয়ার থেরাপি (Kegel Chair Therapy) ব্যবহার করা হয়। এটি এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে রোগী কাপড় পরেই বিশেষ একটি চেয়ারে বসে থেরাপি নিতে পারেন। কেগেল চেয়ার কীভাবে কাজ করে? কেগেল চেয়ারের বিভিন্ন মডেলে প্রযুক্তি ভিন্ন হতে পারে। অনেক ডিভাইস ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্টিমুলেশন ব্যবহার করে পেলভিক ফ্লোরের পেশিতে বারবার সংকোচন তৈরি করে। এর উদ্দেশ্য হলো পেলভিক ফ্লোরের পেশিকে সক্রিয় করা এবং পেশির কার্যক্ষমতা উন্নত করার প্রশিক্ষণে সহায়তা করা। কোন সমস্যায় ব্যবহার করা হতে পারে? রোগীর অবস্থা মূল্যায়নের পর কিছু ক্ষেত্রে এটি বিবেচনা করা যেতে পারে— — পেলভিক ফ্লোর পেশির দুর্বলতা — প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা — কাশি বা হাঁচির সময় প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়া — প্রস্টেট অপারেশনের পর কিছু ধরনের urinary leakage — পেলভিক ফ্লোর পেশি ঠিকভাবে সক্রিয় করতে অসুবিধা তবে একই লক্ষণের কারণ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। তাই থেরাপি নেওয়ার আগে মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষের যৌন সমস্যায় কি কেগেল চেয়ার কাজ করে? পেলভিক ফ্লোরের পেশি পুরুষের যৌন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। তাই পেলভিক ফ্লোর দুর্বলতা থাকলে উপযুক্ত pelvic floor rehabilitation কিছু রোগীর জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে কেগেল চেয়ার ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ED) বা দ্রুত বীর্যপাতের নিশ্চিত চিকিৎসা—এমন দাবি করা ঠিক নয়। এসব সমস্যার পেছনে রক্তনালী, স্নায়ু, হরমোন, মানসিক কারণসহ আরও অনেক বিষয় থাকতে পারে। সবার কি কেগেল চেয়ার প্রয়োজন? না। কারও পেলভিক ফ্লোর দুর্বল থাকে, আবার কারও পেশি অতিরিক্ত টাইট থাকে। পেশি অতিরিক্ত টাইট বা ব্যথাযুক্ত হলে আরও বেশি সংকোচন তৈরি করা উপযুক্ত নাও হতে পারে। এ কারণেই শুধু উপসর্গ শুনে কেগেল চেয়ার শুরু না করে আগে পেলভিক ফ্লোরের অবস্থা বোঝা প্রয়োজন। শুধু চেয়ার থেরাপিই কি যথেষ্ট? সাধারণত পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব শুধু একটি মেশিনের ওপর নির্ভর করে না। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী কেগেল চেয়ার থেরাপির পাশাপাশি সঠিক পেলভিক ফ্লোর ব্যায়াম, পেশির নিয়ন্ত্রণ ও রিলাক্সেশন শেখানো, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, ব্লাডার ট্রেনিং এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। মূল কথা—মেশিন নয়, সঠিক রোগীর জন্য সঠিক চিকিৎসা নির্বাচনটাই গুরুত্বপূর্ণ। ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম পেলভিক হেলথ ফিজিও BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট
বিস্তারিত দেখুন →
পেলভিক ফ্লোর অ্যাসেসমেন্ট: কেন প্রয়োজন? প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা, বারবার প্রস্রাব, পেলভিক ব্যথা বা কিছু যৌন সমস্যা হলেই অনেকে কেগেল ব্যায়াম শুরু করেন। কিন্তু সবার পেলভিক ফ্লোর দুর্বল থাকে না। কারও পেশি দুর্বল, কারও অতিরিক্ত টাইট, আবার কারও পেশি ঠিক সময়ে সংকুচিত বা রিলাক্স করতে পারে না। পেলভিক ফ্লোর অ্যাসেসমেন্টের মূল উদ্দেশ্য হলো সমস্যাটা আসলে কোথায়, সেটা বোঝা। কোন সমস্যায় অ্যাসেসমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে? কিছু ক্ষেত্রে পেলভিক ফ্লোর মূল্যায়ন উপকারী হতে পারে— — প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা — হঠাৎ প্রস্রাবের তীব্র চাপ — বারবার প্রস্রাব হওয়া — প্রস্রাব শেষে ফোঁটা ফোঁটা পড়া — পেলভিক বা পেরিনিয়ামে ব্যথা — পেলভিক ফ্লোর পেশি দুর্বল মনে হওয়া — প্রস্টেট অপারেশনের পর প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের সমস্যা — কিছু ক্ষেত্রে ইরেকশন বা বীর্যপাতের সমস্যার সঙ্গে পেলভিক ফ্লোরের ভূমিকা আছে কি না বুঝতে অ্যাসেসমেন্টে কী দেখা হয়? প্রথমে আপনার সমস্যার বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়া হয়। কখন থেকে সমস্যা, কী করলে বাড়ে বা কমে, প্রস্রাব ও পায়খানার অভ্যাস, ব্যথা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হতে পারে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী দেখা হয়— — পেলভিক ফ্লোর পেশির শক্তি — পেশি অতিরিক্ত টাইট কি না — পেশি সংকুচিত ও রিলাক্স করার ক্ষমতা — পেশির নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় — শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে পেশির কাজ — কোমর, হিপ ও আশপাশের পেশির অবস্থা প্রয়োজনে এবং রোগীর সম্মতি নিয়ে আরও নির্দিষ্ট পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রতিটি ধাপ আগে বুঝিয়ে বলা এবং রোগীর স্বাচ্ছন্দ্য ও গোপনীয়তা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাসেসমেন্ট ছাড়া কেগেল করলে সমস্যা কী? ধরুন আপনার পেলভিক ফ্লোর আগে থেকেই অতিরিক্ত টাইট। আপনি যদি এটাকে দুর্বল ভেবে বারবার কেগেল করেন, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে ব্যথা বা অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। আবার সত্যিই দুর্বল হলে সঠিকভাবে পেশি সক্রিয় করা ও ধীরে ধীরে শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তাই “কেগেল করুন” বলার আগে “কেগেল প্রয়োজন কি না” বোঝাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাসেসমেন্টের পর কী হয়? মূল্যায়নের ফল অনুযায়ী ব্যক্তিভেদে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়। কারও পেলভিক ফ্লোর শক্তিশালী করার ব্যায়াম প্রয়োজন হতে পারে। কারও প্রয়োজন হতে পারে পেশি রিলাক্স করা, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, ব্লাডার ট্রেনিং বা পেলভিক অঞ্চলের অন্য সমস্যার চিকিৎসা। অর্থাৎ সবার জন্য একই ব্যায়াম বা একই থেরাপি নয়। সঠিক অ্যাসেসমেন্ট → সমস্যার ধরন বোঝা → প্রয়োজন অনুযায়ী পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব। ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম পেলভিক হেলথ ফিজিও BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট
বিস্তারিত দেখুন →
দ্রুত বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণে বিহ্যাভিওরাল টেকনিক দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যায় শুধু ওষুধই একমাত্র পথ নয়। কিছু ক্ষেত্রে বিহ্যাভিওরাল টেকনিক (Behavioral Techniques) বা আচরণগত প্রশিক্ষণ বীর্যপাতের আগে শরীরের উত্তেজনা চিনতে এবং নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে সবার সমস্যা এক নয়। তাই কোন কৌশলটি উপযুক্ত, সেটাও ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। বিহ্যাভিওরাল টেকনিক কী? সহজভাবে বললে, যৌন উত্তেজনা খুব দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আগেই শরীরের সংকেত বুঝতে শেখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গতি কমানো, বিরতি নেওয়া বা রিলাক্স করার অনুশীলনই এর মূল লক্ষ্য। এটি একদিনে শেখার বিষয় নয়। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। Stop–Start Technique এটি বহুল পরিচিত একটি কৌশল। উত্তেজনা যখন এমন পর্যায়ে যাচ্ছে যে বীর্যপাত খুব কাছে মনে হচ্ছে, তখন কিছু সময়ের জন্য যৌন উদ্দীপনা বন্ধ করা হয়। উত্তেজনা কিছুটা কমে এলে আবার শুরু করা হয়। এভাবে ধীরে ধীরে বীর্যপাতের আগের সংকেতগুলো চিনতে শেখা যায়। Squeeze Technique এই পদ্ধতিতে বীর্যপাত খুব কাছে মনে হলে উদ্দীপনা বন্ধ করে পেনিসে নির্দিষ্টভাবে অল্প সময় চাপ প্রয়োগ করা হয়। উত্তেজনা কমে এলে আবার শুরু করা যায়। তবে সবার জন্য এই পদ্ধতি প্রয়োজন বা আরামদায়ক নয়। ব্যথা হয় এমন চাপ দেওয়া উচিত নয়। উত্তেজনার মাত্রা চিনতে শেখা অনেকের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো—উত্তেজনা কখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, সেটাই বুঝতে পারেন না। তাই নিজের উত্তেজনাকে ধাপে ধাপে চিনতে শেখানো হয়। বীর্যপাতের একেবারে কাছাকাছি যাওয়ার আগেই গতি কমানো, বিরতি নেওয়া এবং শরীরকে রিলাক্স করার অনুশীলন করা যায়। শ্বাস ও পেলভিক ফ্লোর রিলাক্সেশন উত্তেজনার সময় অনেকে অজান্তেই শ্বাস আটকে রাখেন এবং পেলভিক ফ্লোরসহ শরীরের বিভিন্ন পেশি শক্ত করে ফেলেন। ধীরে শ্বাস নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় পেশির টান কমানোর অনুশীলন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণের অংশ হতে পারে। শুধু বেশি বেশি কেগেল করাই সমাধান নয়। পেলভিক ফ্লোর অতিরিক্ত টাইট থাকলে আগে রিলাক্সেশন শেখানোর প্রয়োজন হতে পারে। ফল পেতে কতদিন লাগে? এর নির্দিষ্ট সময় নেই। সমস্যার কারণ, কতদিন ধরে আছে এবং নিয়মিত অনুশীলন করা হচ্ছে কি না—এসবের ওপর ফল নির্ভর করে। দ্রুত বীর্যপাতের পেছনে ইরেকশনের সমস্যা, উদ্বেগ, সম্পর্কের সমস্যা বা অন্য শারীরিক কারণ থাকলে সেগুলোরও আলাদা মূল্যায়ন ও চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। মূল লক্ষ্য শুধু সময় বাড়ানো নয়—নিজের উত্তেজনা বুঝতে এবং বীর্যপাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে শেখা। ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম পেলভিক হেলথ ফিজিও BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট
বিস্তারিত দেখুন →
উত্থান, দ্রুত বীর্যপাত ও প্রস্টেট সমস্যায় আকুপাংচার পুরুষের যৌন বা প্রস্রাবের সমস্যা হলেই কি আকুপাংচার করা যায়? আকুপাংচার (Acupuncture) একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে শরীরের নির্দিষ্ট জায়গায় খুব চিকন সূঁচ ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি মূল চিকিৎসার পাশাপাশি সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে ইরেকটাইল ডিসফাংশন, দ্রুত বীর্যপাত বা প্রস্টেটের সমস্যার একমাত্র বা নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে আকুপাংচারকে দেখা ঠিক নয়। উত্থান সমস্যায় আকুপাংচার ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ED) হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন— — ডায়াবেটিস — রক্তনালীর সমস্যা — স্নায়ুর সমস্যা — হরমোনের সমস্যা — কিছু ওষুধ — মানসিক চাপ বা পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটি কিছু গবেষণায় বিশেষ করে মানসিক বা মিশ্র কারণের ED-তে আকুপাংচারের সম্ভাব্য উপকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে এখনো প্রমাণ সীমিত এবং সবার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যায় না। তাই ED হলে আগে কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত বীর্যপাতের ক্ষেত্রে দ্রুত বীর্যপাতের (Premature Ejaculation) চিকিৎসাতেও কিছু গবেষণায় আকুপাংচার নিয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তবে বর্তমানে এটিকে একক প্রধান চিকিৎসা হিসেবে ধরে নেওয়ার মতো শক্ত প্রমাণ নেই। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিহ্যাভিওরাল টেকনিক, পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব, কাউন্সেলিং এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের পাশাপাশি আকুপাংচার সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রস্টেট সমস্যায় আকুপাংচার “প্রস্টেট সমস্যা” বলতে অনেক ধরনের সমস্যা বোঝানো হতে পারে। প্রস্টেট বড় হওয়া (BPH), দীর্ঘদিনের পেলভিক ব্যথা বা Chronic Prostatitis/Chronic Pelvic Pain Syndrome—সবগুলোর চিকিৎসা এক নয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের পেলভিক ব্যথার কিছু রোগীর ক্ষেত্রে আকুপাংচার ব্যথা ও কিছু urinary symptom কমাতে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু আকুপাংচার বড় হয়ে যাওয়া প্রস্টেটকে ছোট করে দেয়—এমন দাবি করা ঠিক নয়। আকুপাংচারের সঙ্গে আর কী প্রয়োজন হতে পারে? সমস্যার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসায় আরও থাকতে পারে— — পেলভিক ফ্লোর ফিজিওথেরাপি — পেলভিক ফ্লোর রিলাক্সেশন বা ট্রেনিং — ব্লাডার ট্রেনিং — বিহ্যাভিওরাল টেকনিক — নিয়মিত ব্যায়াম ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন — প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরোলজিস্ট বা চিকিৎসকের চিকিৎসা অর্থাৎ একটি থেরাপির ওপর নির্ভর না করে সমস্যার কারণ অনুযায়ী সমন্বিত চিকিৎসাই গুরুত্বপূর্ণ। কার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি? প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবে রক্ত, জ্বরের সঙ্গে প্রস্রাবে ব্যথা, হঠাৎ অণ্ডকোষে তীব্র ব্যথা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ থাকলে আগে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। মূল কথা: আকুপাংচার কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু আগে সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরি। ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম পেলভিক হেলথ ফিজিও BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট
বিস্তারিত দেখুন →
হোম এক্সারসাইজ প্রোগ্রাম পেলভিক ফ্লোরের চিকিৎসা শুধু ক্লিনিকে থেরাপি নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত হোম এক্সারসাইজ প্রোগ্রাম (Home Exercise Program) চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সবার জন্য একই ব্যায়াম নয়। আপনার পেলভিক ফ্লোর দুর্বল, অতিরিক্ত টাইট নাকি পেশির নিয়ন্ত্রণে সমস্যা—সেটা বুঝে ব্যায়াম নির্বাচন করা দরকার। হোম এক্সারসাইজ প্রোগ্রামে কী থাকতে পারে? সমস্যা অনুযায়ী প্রোগ্রামে থাকতে পারে— — পেলভিক ফ্লোর শক্তিশালী করার ব্যায়াম — পেলভিক ফ্লোর রিলাক্সেশন — শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম — কোমর ও হিপের প্রয়োজনীয় স্ট্রেচিং — কোর ও হিপ পেশির ব্যায়াম — ব্লাডার ট্রেনিং — দৈনন্দিন কাজে পেলভিক ফ্লোর সঠিকভাবে ব্যবহারের অনুশীলন কোন ব্যায়াম কতবার এবং কতদিন করতে হবে, সেটাও ব্যক্তিভেদে ঠিক করা হয়। শুধু কেগেল করলেই হবে? সবসময় নয়। পেলভিক ফ্লোর দুর্বল হলে কেগেল বা strengthening exercise প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু পেশি অতিরিক্ত টাইট থাকলে বেশি কেগেল করলে কিছু মানুষের ব্যথা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই ইউটিউব বা ইন্টারনেট দেখে নিজের মতো করে ব্যায়াম শুরু করার পরিবর্তে আগে সমস্যার ধরন জানা ভালো। কোন সমস্যায় হোম প্রোগ্রাম দেওয়া হতে পারে? পেলভিক ফ্লোর দুর্বলতা, প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, প্রস্টেট সার্জারির পর urinary leakage, কিছু ধরনের পেলভিক ব্যথা এবং পেলভিক ফ্লোরের নিয়ন্ত্রণ বা সমন্বয়ের সমস্যায় মূল্যায়নের ভিত্তিতে হোম প্রোগ্রাম দেওয়া যেতে পারে। কিছু যৌন সমস্যার ক্ষেত্রে পেলভিক ফ্লোরের সমস্যা পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়াম ও রিলাক্সেশন ট্রেনিংও চিকিৎসার অংশ হতে পারে। ফলোআপ কেন দরকার? একই ব্যায়াম মাসের পর মাস করাই হোম প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য নয়। ফলোআপে দেখা হয় আপনি সঠিকভাবে ব্যায়াম করছেন কি না, লক্ষণ পরিবর্তন হচ্ছে কি না এবং ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো বা পরিবর্তন করা প্রয়োজন কি না। সঠিক অ্যাসেসমেন্ট → ব্যক্তিভিত্তিক ব্যায়াম → নিয়মিত অনুশীলন → প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোগ্রামের পরিবর্তন। এভাবেই একটি পরিকল্পিত হোম এক্সারসাইজ প্রোগ্রাম করা উচিত। ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম পেলভিক হেলথ ফিজিও BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট
বিস্তারিত দেখুন →
ম্যানুয়াল থেরাপি পেলভিক এলাকায় ব্যথা, পেশির অতিরিক্ত টান বা নড়াচড়ার সমস্যা থাকলে কিছু রোগীর চিকিৎসায় ম্যানুয়াল থেরাপি (Manual Therapy) ব্যবহার করা হতে পারে। সহজভাবে বললে, একজন প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্ট হাতের মাধ্যমে পেশি ও আশপাশের টিস্যু মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেন। পেলভিক সমস্যায় কেন ম্যানুয়াল থেরাপি দেওয়া হয়? পেলভিক ফ্লোরের সমস্যা শুধু পেশি দুর্বল হওয়ার কারণে হয় না। অনেকের পেলভিক ফ্লোর, হিপ, কোমর বা আশপাশের পেশি অতিরিক্ত টাইট বা সংবেদনশীল থাকতে পারে। এক্ষেত্রে সমস্যার ধরন অনুযায়ী ম্যানুয়াল থেরাপির উদ্দেশ্য হতে পারে— — অতিরিক্ত পেশির টান কমাতে সাহায্য করা — ব্যথা ও অস্বস্তি কমানো — পেশির স্বাভাবিক নড়াচড়া ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করা — পেলভিক ফ্লোর রিলাক্স করতে শেখানো — কোমর ও হিপের নড়াচড়া উন্নত করা কোন সমস্যায় ব্যবহার করা হতে পারে? মূল্যায়নের পর কিছু ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল থেরাপি বিবেচনা করা যেতে পারে— — দীর্ঘদিনের পেলভিক ব্যথা — পেরিনিয়াম বা কুঁচকিতে ব্যথা — পেলভিক ফ্লোর অতিরিক্ত টাইট থাকা — কোমর ও হিপের পেশির সমস্যার সঙ্গে পেলভিক উপসর্গ থাকা — কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাব বা যৌনক্রিয়ার সময় পেশির টান ও ব্যথা তবে সবার ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল থেরাপি প্রয়োজন হয় না। থেরাপি কীভাবে করা হয়? প্রথমে রোগীর সমস্যা ও পেশির অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী কোমর, হিপ, তলপেট এবং পেলভিক অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট পেশি ও নরম টিস্যুতে বিভিন্ন ম্যানুয়াল কৌশল ব্যবহার করা হতে পারে। পেলভিক ফ্লোরের কোনো নির্দিষ্ট বা ইন্টারনাল পরীক্ষা বা চিকিৎসা প্রয়োজন হলে সেটি আগে বিস্তারিত বুঝিয়ে বলা এবং রোগীর স্পষ্ট সম্মতি (consent) নেওয়া জরুরি। রোগী যেকোনো সময় পরীক্ষা বা চিকিৎসা বন্ধ করতে বলতে পারেন। শুধু ম্যানুয়াল থেরাপি কি যথেষ্ট? সবসময় নয়। দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির জন্য সমস্যার ধরন অনুযায়ী ম্যানুয়াল থেরাপির পাশাপাশি পেলভিক ফ্লোর রিলাক্সেশন বা ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, হোম এক্সারসাইজ এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। ম্যানুয়াল থেরাপির লক্ষ্য শুধু সাময়িক আরাম নয়—রোগীর সমস্যার ধরন বুঝে পুরো রিহ্যাব প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে এটি ব্যবহার করা। ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম পেলভিক হেলথ ফিজিও BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট
বিস্তারিত দেখুন →
লঞ্চ অফার
দ্রুত বীর্যপাত কেন হয়, আর ঘরে বসে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ শিখবেন। ৯৪ পৃষ্ঠা, ১০টি অধ্যায়, ৩০ দিনের প্ল্যান, ১২টি রেফারেন্সসহ। পেমেন্টের পর PDF WhatsApp-এ পাঠানো হবে।
জনপ্রিয়
পেলভিক ফ্লোর পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্যকারী ঘরোয়া ব্যায়াম কিট। নিয়মিত ব্যবহারে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ ও যৌন সক্ষমতা উন্নত হয়।
পুরুষের পেলভিক ও যৌন স্বাস্থ্যের জন্য একটি বিশেষায়িত ফিজিওথেরাপি সেবা, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা আপনার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করি।
গোপনীয় মূল্যায়ন ও পরামর্শের জন্য এখনই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
ফরমটি পূরণ করুন — আমাদের প্রতিনিধি গোপনীয়তার সাথে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে।