প্রস্টেট ও প্রস্রাবের সমস্যা: কখন গুরুত্ব দেবেন?
বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেক পুরুষের প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন আসে। বারবার প্রস্রাব লাগছে, রাতে কয়েকবার উঠতে হচ্ছে, প্রস্রাব শুরু হতে সময় লাগছে বা আগের মতো জোরে হচ্ছে না—এসব সমস্যার পেছনে প্রস্টেটের ভূমিকা থাকতে পারে।
তবে প্রস্রাবের সমস্যা মানেই প্রস্টেটের সমস্যা নয়। মূত্রাশয়, ইউরিন ইনফেকশন, ডায়াবেটিস, কিছু ওষুধ বা পেলভিক ফ্লোরের সমস্যাতেও একই ধরনের লক্ষণ হতে পারে।
প্রস্টেট কী?
প্রস্টেট পুরুষদের একটি ছোট গ্রন্থি, যা মূত্রাশয়ের ঠিক নিচে থাকে এবং প্রস্রাবের নালীর একটি অংশকে ঘিরে রাখে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেক পুরুষের প্রস্টেট ধীরে ধীরে বড় হতে পারে। একে সাধারণভাবে Benign Prostatic Hyperplasia (BPH) বলা হয়।
প্রস্টেট বড় হলে কারও কারও প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা তৈরি হতে পারে।
কোন লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে?
— ঘন ঘন প্রস্রাব লাগা
— রাতে বারবার প্রস্রাব করতে ওঠা
— হঠাৎ খুব জোরে প্রস্রাবের চাপ আসা
— প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া
— প্রস্রাবের গতি বা জোর কমে যাওয়া
— থেমে থেমে প্রস্রাব হওয়া
— প্রস্রাব করার পরও কিছু থেকে গেছে মনে হওয়া
— প্রস্রাব শেষে ফোঁটা ফোঁটা পড়া
এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে শুধু বয়সের কারণে হচ্ছে ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
সব সমস্যাই কি প্রস্টেট বড় হওয়ার কারণে?
না।
Overactive Bladder, ইউরিন ইনফেকশন, ডায়াবেটিস, মূত্রাশয়ের সমস্যা, পেলভিক ফ্লোরের অতিরিক্ত টান বা দুর্বলতা এবং কিছু ওষুধের কারণেও প্রস্রাবের সমস্যা হতে পারে।
তাই চিকিৎসার আগে সমস্যার আসল কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।
পেলভিক ফ্লোর ফিজিওথেরাপি কোথায় কাজে আসতে পারে?
সব ধরনের প্রস্টেট সমস্যার চিকিৎসা ফিজিওথেরাপি নয়। তবে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, হঠাৎ প্রস্রাবের চাপ, কিছু ধরনের urinary leakage এবং প্রস্টেট অপারেশনের পর প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যার ক্ষেত্রে পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রয়োজন অনুযায়ী পেলভিক ফ্লোর ট্রেনিং, পেশি রিলাক্সেশন, ব্লাডার ট্রেনিং, শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল ও জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন শেখানো হতে পারে।
নিজে থেকে শুধু কেগেল শুরু করাও সবসময় ঠিক নয়। কারও পেশি দুর্বল, আবার কারও অতিরিক্ত টাইট থাকতে পারে। আগে সমস্যার ধরন বোঝা দরকার।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
প্রস্রাব একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলে, প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে, জ্বরের সঙ্গে প্রস্রাবে তীব্র জ্বালা বা ব্যথা হলে কিংবা তীব্র তলপেটের ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রস্টেট বা প্রস্রাবের সমস্যা নিয়ে লজ্জা পাওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিকভাবে মূল্যায়ন করলে সমস্যার কারণ বোঝা এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম
পেলভিক হেলথ ফিজিও
BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা
সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট