পুরুষের যৌন স্বাস্থ্য: ভালো রাখতে কী জানা জরুরি?
পুরুষের যৌন স্বাস্থ্য মানে শুধু ইরেকশন বা যৌনক্ষমতা নয়। যৌন ইচ্ছা, ইরেকশন, বীর্যপাতের নিয়ন্ত্রণ, হরমোন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পেলভিক ফ্লোর—সবকিছু মিলেই যৌন স্বাস্থ্য।
কোনো একটি জায়গায় সমস্যা হলে তার প্রভাব যৌনজীবনেও পড়তে পারে।
পুরুষদের সাধারণ যৌন সমস্যা কী কী?
অনেক পুরুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। যেমন—
— লিঙ্গ শক্ত হতে সমস্যা
— শক্ত হলেও ধরে রাখতে না পারা
— দ্রুত বীর্যপাত
— যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া
— যৌনক্রিয়ার সময় ব্যথা বা অস্বস্তি
— বীর্যপাতের সময় সমস্যা
— পেলভিক এলাকায় ব্যথা বা টান
একবার-দুবার এমন হলেই যে রোগ আছে, তা নয়। কিন্তু সমস্যা নিয়মিত হলে কারণটা জানা দরকার।
ইরেকশন দুর্বল হওয়ার কারণ কী?
ইরেকশন মূলত রক্তপ্রবাহ, স্নায়ু, হরমোন ও মানসিক অবস্থার সমন্বয়ে হয়।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তনালীর সমস্যা, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, কিছু ওষুধ, ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ বা পারফরম্যান্স নিয়ে ভয়—বিভিন্ন কারণে ইরেকশনে সমস্যা হতে পারে।
তাই শুধু যৌনাঙ্গের সমস্যা হিসেবে না দেখে পুরো স্বাস্থ্যের দিকটাও দেখা প্রয়োজন।
দ্রুত বীর্যপাত কেন হতে পারে?
দ্রুত বীর্যপাতের পেছনেও একটি কারণ থাকে না।
অতিরিক্ত উত্তেজনা, উদ্বেগ, বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণের অসুবিধা, ইরেকশন নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং কিছু ক্ষেত্রে পেলভিক ফ্লোর পেশির অতিরিক্ত টান বা নিয়ন্ত্রণের সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে।
সঠিক কারণ বুঝে চিকিৎসা করলে অনেক ক্ষেত্রেই ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
পেলভিক ফ্লোরের সঙ্গে যৌন স্বাস্থ্যের সম্পর্ক কী?
পেলভিক ফ্লোরের পেশি ইরেকশন ও বীর্যপাতসহ পুরুষের যৌন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
তবে পেলভিক ফ্লোরের সমস্যা মানেই পেশি দুর্বল—এটা ঠিক নয়। কারও পেশি দুর্বল হতে পারে, আবার কারও অতিরিক্ত টাইট থাকতে পারে।
এ কারণেই সবার জন্য নিজের মতো করে কেগেল ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে আগে পেলভিক ফ্লোর মূল্যায়ন করা ভালো।
যৌন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কী করবেন?
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন, পর্যাপ্ত ঘুমান, ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং ওজন, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
একই সঙ্গে মানসিক চাপ কমানো এবং সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে অনলাইনের টোটকা বা নিজের মতো করে ওষুধ ব্যবহার না করে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নিন।
কখন পরামর্শ নেওয়া উচিত?
ইরেকশন, বীর্যপাত, যৌন ইচ্ছা, পেলভিক ব্যথা বা প্রস্রাবের সমস্যা যদি নিয়মিত হতে থাকে এবং ব্যক্তিগত বা দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে মূল্যায়ন করানো ভালো।
লজ্জার কারণে সমস্যা লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। কারণটা ঠিকভাবে বোঝা গেলে চিকিৎসার পথও অনেক পরিষ্কার হয়।
ফিজিও মো. তরিকুল ইসলাম
পেলভিক হেলথ ফিজিও
BPT – জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (নিটোর), ঢাকা
সার্টিফাইড মেল পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাব থেরাপিষ্ট